অনলাইন ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ৩ জুন ২০২৬
জোরপূর্বক শ্রম (Forced Labor) নিয়ে তীব্র উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশসহ বিশ্বের মোট ৬০টি দেশের ওপর নতুন করে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের একটি বড় ও নজিরবিহীন প্রস্তাব দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই সিদ্ধান্তের ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এসব দেশের পণ্য রপ্তানি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে যাচ্ছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) ট্রাম্প প্রশাসন ৬০টি দেশ থেকে আমদানিকৃত বিভিন্ন পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ অথবা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের এই বিতর্কিত প্রস্তাবটি দেয়।
মার্কিন প্রশাসনের দাবি, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত বিভিন্ন সস্তা পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ও বৈধ বাণিজ্যকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে এবং মার্কিন উৎপাদনকারীদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে। মূলত এ কারণেই এমন কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় (USTR) আনুষ্ঠানিকভাবে এই নতুন শুল্ক প্রস্তাবটি জনসমক্ষে প্রকাশ করে। এটি মূলত মার্কিন বাণিজ্য আইনের বিখ্যাত ‘ধারা ৩০১’-এর (Section 301) অধীনে অন্যায্য বৈশ্বিক বাণিজ্য চর্চা সংক্রান্ত একটি দীর্ঘ ও জটিল তদন্তের সর্বশেষ চূড়ান্ত ফলাফল।
এমন একটি সময়ে ট্রাম্প প্রশাসন এই নতুন প্রস্তাবটি নিয়ে এলো, যখন তারা দেশের সামগ্রিক জরুরি শুল্ক কাঠামো পুনর্গঠনের জোর উদ্যোগ নিয়েছে। এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের এক ঐতিহাসিক রায়ে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ববর্তী বিতর্কিত শুল্কব্যবস্থাটি সম্পূর্ণ বেআইনি ও বাতিল হয়ে গিয়েছিল। ফলে নতুন করে এই শুল্ক আরোপের আইনি পথ তৈরি করা হচ্ছে।
ইউএসটিআর (USTR) তাদের দীর্ঘ তদন্তের পরিপ্রক্ষিতে জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু দেশের পণ্যে জোরপূর্বক শ্রমের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশ, কানাডা, ইকুয়েডর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, আর্জেন্টিনা, কম্বোডিয়া, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান এবং যুক্তরাজ্য থেকে আমদানিকৃত সুনির্দিষ্ট পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শীর্ষস্থানীয় এই মার্কিন বাণিজ্য সংস্থাটি আরও নিশ্চিত করেছে, তাদের তদন্তের আওতায় থাকা বাকি ৪৫টি দেশের পণ্যের ওপর তুলনামূলকভাবে আরও বেশি অর্থাৎ অতিরিক্ত ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করার জন্য নীতিগত প্রস্তাব করা হয়েছে।
রপ্তানি খাতের বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রস্তাব যদি চূড়ান্তভাবে কার্যকর হয়, তবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ (RMG) অন্যান্য শীর্ষ রপ্তানি পণ্য মার্কিন বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়বে, যা দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |